ভোলার লালমোহন উপজেলায় বাসচাপায় শালা-দুলাভাইয়ের মৃত্যুর তিন দিন পর একই স্থানে মা-ছেলেসহ তিন জনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ঘণ্টাব্যাপী ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের গজারিয়া বাজার এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা। অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে প্রায় শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা।
পরে বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
আলোচনা শেষে আগামীকাল (বুধবার) সকাল ১০টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে সাময়িকভাবে সড়ক অবরোধ তুলে নেয় ছাত্র-জনতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারী) সন্ধ্যার পর লালমোহন উপজেলার গজারিয়া বাজার এলাকায় ডা. আজহার উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসচাপায় ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী আবুল কালাম ও মো. অলি উল্যাহ ডুবাই নামের দুই জনের মৃত্যু হয়। এরা দুই জন সম্পর্কে শালা-দুলাভাই।
এ ঘটনর পর বিক্ষুদ্ধ জনতা যাত্রীবাহ বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে যাত্রীবাহী বাসচাপায় অটোরিকশায় থাকা মা-ছেলেসহ তিন জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন অটোরিকশা চালক মো. নাসিম (৪৩), অটোর যাত্রী শিল্পী রাণী দাস (৫৫) ও তার ছেলে তুষার দাস (২৫)। এরা ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের শশীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।পর পর এ দুইটি ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বাসচালকদের ব্যাপারে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাই তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়।
বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার অভিযোগ, বেপরোয়া বাস চলাচল ও প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই বারবার এ ধরণের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। তাই তারা নিরাপদ সড়ক ও বাসচালকদের যতাযথ শাস্তির দাবি জানান।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, গত বৃহস্পতিবার ও সোমবারের দুটি বাস দুর্ঘটনায় নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে আলাদা মামলা করা হয়েছে।
এতে বাসের অজ্ঞাতনামা চালক ও সহযোগীদের আসামি করা হয়েছে। মামলায় বাসের চালক ও সহযোগীদের নাম না থাকায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।