
বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি, দৈনিক ভোলা টাইমস্ ডেক্স:
‘নদীতে প্রাণের কান্না : বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াও’-এ স্লোগানকে সামনে রেখে, নদীর তীরে হেঁটে ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যুবক টনি এখন বোরহানউদ্দিনের মেঘনা পাড়ে।
নদী অবনতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত ‘নদীতে প্রাণের কান্না : বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াও’ শীর্ষক ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং অভিযানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের মেঘনা নদীর পাড়ে এক নাগরিক সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের (BMTC) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে জলবায়ু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত যুব, নাগরিক, পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (BMTC)-এর যৌথ আয়োজনে গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার চর ইটালুকান্দা গ্রাম থেকে মাসফিকুল হাসান টনি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরি মুকরির উদ্দেশ্যে একক ক্রস-কান্ট্রি হাইকিং অভিযান শুরু করেন।
তিনি এখন পর্যন্ত মোট ৫০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন এবং আজ অভিযানের ১৬ তম দিনে তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী বড়মানিকা ইউনিয়নে এসে পৌছেন । এ সময় নদীর পাড় ধরে শতাধিক জলবায়ু কর্মী তার সাথে হাঁটেন।
পরে ওই স্থানে নাগরিক সংবর্ধনায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মাসফিকুল হাসান টনি বলেন, নদী পাড়ের মানুষের ভাঙন ও দুর্দশা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদী বিপর্যয় রোধ করতে সবাইকে সচেষ্ট থাকার আহবান জানাতে তার এ পথ চলা ।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে প্রবেশমুখ ডিগ্রির চর থেকে ২৪ জানুয়ারি নদীর পাড় ধরে হেঁটে টনি আজ ভোলায় আসলেন। আমরা তাকে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশে নদী ধ্বংস ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের প্রতিবাদে টনির এই একক পদযাত্রা বঙ্গোপসাগরে গিয়ে থামবে। টনি একা হাঁটলেও তার সাথে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) DHORITRI ROKHHAY AMRA (DHORA) হাঁটছে সারা দেশের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় সচেষ্ট সব মানুষ। নির্বাচনের প্রাক্কালে বিরল এই প্রতিবাদ রাজনৈতিক নেতাদের পরিবেশ রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ করবে- আমরা এই প্রত্যাশা করি।
উপস্থিত অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’র সদস্য ও রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেন, টনি আমাদের স্বপ্নের জন্য হাঁটছে। তাকে আমরা ধন্যবাদ দিতে চাই। প্রকৃতির কল্যাণে আমরা এভাবে হাঁটতে চাই। আমরা সচেতন হলেই পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব। ব্যক্তি সচেতনতা এখানে খুব বেশি দরকার।
সমাবেশে ব্রাইটার্সের চেয়ারম্যান ফারিহা অমি বলেন, নদী দূষণ, দখল ও জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তারের প্রতিবাদে আমাদের যুবদের আওয়াজ জারি রাখতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, নদী ও জলাভূমি রক্ষা ছাড়া জলবায়ু সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, দখল ও দূষণের কারণে দেশের নদী ও জলাভূমি আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে অবিলম্বে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমানো, নদী দখল ও দূষণ বন্ধ করা এবং জলাভূমি সংরক্ষণে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ থেকে টনির দীর্ঘ পদযাত্রার প্রতি সংহতি জানিয়ে বক্তারা বলেন, এ ধরনের প্রতীকী ও সাহসী উদ্যোগ জনমনে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা তরুণ সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে পরিবেশ ও জলবায়ু ন্যায়ের আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। নদী দখল, দূষণ এবং শাসনের প্রভাব নাগরিক জীবনকে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেই বিষয়েও বক্তারা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
