
ভোলার বোরহানউদ্দিনের পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এক চোরকে ধরে বিপাকে পড়েছে এলাকাবাসী। চুরি করার সময় ধরা পড়লে স্থানীয়রা তাকে উত্তম মধ্যম দেয়। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই চোর এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়।মামলাটি তদন্ত থাকলেও এর পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে চোর নয়, এলাকাবাসীই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। জানা যায়,একের পর এক চুরি হওয়ার কারণে ওই এলাকায় চুরি প্রতিরোধে গত বেশ কিছুদিন যাবত গ্রামের লোকজন রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা বসিয়ে আসছিলেন ও গঠন করা হয় একটি কমিটি। এলাকাবাসী জানায়,২২শে জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে শফিকুল ইসলাম এর বাড়িতে থাকা ভাড়াটিয়া আক্তারের ঘরের জানালা ও তালা ভাঙার শব্দ পেয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠে বাড়ির লোক,ছুটে আসে চোর ধরা কমিটির পাহারাদার ব্যক্তিরাও। তখন সবাই চিৎকার করে চোরের পিছনে ধাওয়া করে। চোর দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও কিছু দূর গিয়েই ধরা পড়ে। ধরা পড়ার পর দেখা যায়, সে এলাকার স্থানীয় চোর সিরাজ ওরফে সিরাজ বাহিনীর লিডার। হাতেনাতে ধরার পড়ার পর চোরকে গাছে বেঁধে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় জনগণ। সেখানে চোরের সহযোগী হিসেবে উপস্থিত থেকে কেউ ভিডিও ধারণ করে চোরের বউকে জানায়।পরে ওই চোরকে ছাড়াতে স্থানীয় রিয়াজ মাস্টার,নয়ন,বাচ্চুসহ কয়েকজন চলে আসে বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান কে জানালে তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার মফিজুল কে পাঠান,পরবর্তীতে ওই মসজিদের ইমাম ও স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে চুরি করবে না এই মুসলিকা দিয়ে চোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।ছেড়ে দেওয়ার পরে চোরের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেন আদালত একটি মামলা করেন মামলাটি বর্তমানে তদন্ত চলমান রয়েছে। একদিকে ওই চোরের উৎপাত, তার উপরে মামলায় হওয়ার ভয়। এই ভয়ে রীতিমত অতিষ্ঠ পক্ষিয়া ইউনিয়নের কয়েক গ্রামের মানুষ। চোরের হাত থেকে মুক্তি পেতে ও চোরের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয়রা। বুধবার ২৮শে জানুয়ারি সাতবাড়িয়ার রাস্তার মোড়ে এই মানববন্ধনে অর্ধ শতাধিক নারী ও পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশ নেয়া স্থানীয় বাসিন্দা ও সাতবাড়িয়া মসজিদের খতিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম,সাবেক সেনা সদস্য মোহাম্মদ এরশাদ,কামরুল ইসলাম,ফরিদ উদ্দিন নিজাম,মোশারেফ,আকতার সহ কয়েকজন জানান,সিরাজ ওরফে সিরাজ লিডার এলাকার চিহ্নিত চোর। সে একাধিকবার চুরি করার সময় হাতে নাতে ধরা পড়েছে,ওই সময় চুরি করবে না এই মর্মে স্থানীয়দের কাছে স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়েছে তিন থেকে চারবার কিন্তু ফায়দা হয়নি বরং ওর চুরি ধরলে উল্টো হুমকি দেয়, মামলা দেয়। আমরা রাতে ঘুমাতে পারি না, আর এখন গ্রেফতারের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছি না। আমারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, আমাদের এই চোরের হাত থেকে রক্ষা করেন। স্থানীয়রা আরও জানান,পেশাদার চোর মো. সিরাজ বিভিন্ন জায়গায় চুরি করে ধরা পড়ে এবং উল্টো মামলা করার ভয়-ভীতি দেখিয়ে আসে। সাধারণ জনগণ চুরির ভয়ে চোর সিরাজের বিরুদ্ধে কিছু বলতে সাহস পায় না।

