
ভোলা টাইমস্, ডেক্স:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ২৯৮ আসনে ১ হাজার ৯৬৭ প্রার্থী চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার সারাদেশের দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৩০৫ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। আজ বুধবার সারাদেশের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রার্থীদের অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারে নামার সুযোগ পাবেন। গতকাল মধ্যরাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদালতের আদেশের ফলে পুনঃতপশিল হওয়া পাবনা-১ ও ২ আসনের প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি। গতকাল পর্যন্ত ২৯৮ আসনের মধ্যে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী রয়েছেন ২৮৮ আসনে। সাতটি আসনে শরিক দলের জন্য প্রার্থী দেয়নি বিএনপি। এর বাইরে চট্টগ্রাম-২, কুমিল্লা-৪ ও ১০ এই তিন আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। দুটি আসনের প্রার্থী ঋণখেলাপি এবং একটি আসনের প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে বাদ পড়েছেন। তবে অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। গতকাল পর্যন্ত ১৫টি আসন থেকে দলটির পদধারী স্বতন্ত্ররা সরে দাঁড়ালেও ৩৬টি আসনে রয়ে গেছেন। নির্বাচন কমিশন-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর যারা বৈধ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন, তাদের সবার নাম ও প্রতীক ব্যালট পেপারে থাকবে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রয়েছেন ২২৫ আসনে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলির প্রার্থী ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশার প্রার্থী ২৯, খেলাফত মজলিসের ঘড়ির প্রার্থী ১৪, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ছাতার প্রার্থী ৭, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির ঈগলের প্রার্থী ৫, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির বই প্রতীকের প্রার্থী ৩ এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) ফুলকপির প্রার্থী রয়েছেন ২ আসনে। এ জোটের মধ্যে ঘোষিত আসন সমঝোতার বাইরে গিয়ে ১৭টি আসনে একাধিক দলের প্রার্থী রয়ে গেছেন, যদিও তাদের মধ্যে চারটি আসন সমঝোতার মাধ্যমে সব দলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। চার আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীরা সমঝোতা লঙ্ঘন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়ে গেছেন। এ নিয়ে এই জোটে নতুন জটিলতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এ জোটের সমঝোতা প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে গেছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ দলের প্রতীক হাতপাখার প্রার্থী রয়েছেন ২৫৯ আসনে।
পাশাপাশি বিএনপি জোটের শরিক গণঅধিকার পরিষদ সমঝোতায় ট্রাক প্রতীকে একটিতে এবং আরও ৯১ আসেন প্রার্থী দিয়েছে। গণসংহতি আন্দোলনও মাথাল প্রতীকে একটিতে এবং এর বাইরে ১৭টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তবে মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য বিএনপির সঙ্গে একটি আসনে সমঝোতার কথা থাকলেও তা হয়নি। গতকাল বিএনপির প্রার্থী প্রত্যাহার না করায় সমঝোতা থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এখন কেতলি প্রতীকে দলটির ১২টি আসনে প্রার্থী রয়েছেন।
এ ছাড়া জাতীয় পার্টির প্রতীক লাঙ্গল প্রতীকে ১৯৬ আসনে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকে (সিপিবি) ৬০ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) তারা প্রতীকে ৩১ আসনে প্রার্থী রয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে ইসির নিবন্ধিত ৫১ দল অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রার্থীদের একটা বড় অংশই স্বতন্ত্র। এর আগে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৮টি দল অংশ নেয়। সেবার ৩৪৭ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ১ হাজার ৮৯৬ প্রার্থী ছিলেন। পরে আদালতের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৭০ জনে; তার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৫৩৪, স্বতন্ত্র ৪৩৬ জন। ওই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ২৬৬ জন প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের। এর পরই জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন ২৬৫ জন।
কাল থেকে মাঠের লড়াই শুরু
ভোটের মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থদের সঙ্গে। এ বৈঠকে আচরণবিধি নিয়ে কঠোর বার্তা থাকবে বলে জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
ইসির একাধিক কমিশনার জানিয়েছেন, আচরণবিধি প্রতিপালনে শক্ত অবস্থান নেবেন তারা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশনা রয়েছে।
প্রচার শুরুর আগেই বিএনপির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপিকে সতর্ক করেছে ইসি। জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চূড়ান্ত, বুধবার প্রতীক বরাদ্দ। এখন আচরণবিধি প্রতিপালনে দল, প্রার্থী– সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রচারণার নির্ধারিত সময়ে আগে তথা আগাম প্রচার না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। বিএনপির তরফ থেকে অভিযোগ ও ডকুমেন্ট পেয়ে চারটি দলকে সতর্ক করা হয়েছে। সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করার পদক্ষেপ থাকবে বলে জানান ইসি সচিব।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিকের পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশের অনুকূলে নানা পদক্ষেপের পাশাপাশি সবার সহযোগিতাও দরকার।
এদিকে ভোট সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদক্ষেপ নিতে চিঠি দিয়েছে ইসি সচিবালয়। জামায়াতের আমিরসহ ৭ নেতা, বিএনপি প্রার্থীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র সচিবকে বলা হয়েছে।
ইসি ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী এবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে আড়াই হাজার মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ে ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিলের পর বৈধ প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৪২ জন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারি থেকে আপিল আবেদন গ্রহণ শুরু হয়, ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬৪৫ জন আপিল করেছেন। ১০ জানুয়ারি থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়ে একটানা ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। এবার ৬৪৫ জন আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান ৪১৭ জন; সোমবার পর্যন্ত মোট বৈধ প্রার্থী দাঁড়ায় ২ হাজার ২৫৩ জনে। অবশ্য পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে আগে বৈধ হওয়া ১১ প্রার্থী (আগের তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা ১৩ জনের) এ তালিকা থেকে বাদ যাবেন। ভোটের দিন একই রেখে এ দুই আসনে নতুন তপশিল ঘোষণা করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সংশোধিত তপশিল অনুযায়ী রোববার ছিল এ দুটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। শেষ দিনে পাবনা-১ আসনে সাতটি ও পাবনা-২ আসনে পাঁচটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
