
ভোলা টাইমস্ ডেক্স:
ভোলার বোরহানউদ্দিনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের বোরহানগঞ্জবাজার এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোলা-২ আসনে বোরহানগঞ্জ বাজারে জামায়াতের পূর্বঘোষিত মিছিল বের করার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দলটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় বাজার এলাকা কিছু সময়ের জন্য অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ ও নৌবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতের আমির মাকসুদুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান। এতে আট থেকে নয়জন আহত হন। সংঘর্ষ থামার পর রাতে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ওবায়দুল্লাহ এবং জামায়াত নেতা নূর ইসলাম আলম হামলার শিকার হন। তাঁদের যানবাহনে ভাঙচুর করা হয় এবং গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাঁদের ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির (সেলিম) জামায়াতের অতর্কিত হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গতকাল মাগরিবের পর জামায়াতের চার শতাধিক লোক বোরহানগঞ্জ বাজারে বিশাল জমায়েত করে মিছিল বের করে। একপর্যায়ে তাঁরা বিএনপির কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে আসবাব ভাঙচুরের প্রস্তুতি নেয়। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জামায়াত কর্মীরা বিএনপির তিন কর্মীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁদের ছাড়াতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, দুই পক্ষ সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, এমন অবস্থায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়েছে এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়, তবে বড় ধরনের আহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই দিন বিকেল ৪টায় ভোলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা শাখা। সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক কাজী হারুন অর রশিদ বলেন, ভোলার চারটি আসনের কোনোটিতেই সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নেই। বিএনপি জোটের প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকেরা মাঠে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে বিভিন্ন স্থানে বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন।
ভোলা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শামীম রহমান বলেন, ‘প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে এবং শুধু জামায়াত নয়, বিএনপি জোটের প্রার্থীরাও পাল্টা অভিযোগ দিচ্ছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
