
ভোলা টাইমস্, ডেক্স:
জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে বলে প্রচার ও ভোটারদের এনআইডি কার্ডের ছবি তোলা ঘিরে ভোলার লালমোহনে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার রায়চাঁদ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত ৫ জনকে পাঠানো হয়েছে ভোলা সদর হাসপাতালে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোলা-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) নেতা নিজামুল হক নাঈমের কয়েকজন নারীকর্মী রায়চাঁদ বাজার এলাকায় গণসংযোগে যান। এ সময় তারা নারীদের মধ্যে প্রচার করতে থাকেন, জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে। তারা ওই বাড়ির নারীদের এনআইডি কার্ডেরও ছবি তুলে নেন।
বিষয়টি টের পেয়ে বিএনপির কয়েকজন কর্মী তাদের প্রচারণায় বাধা দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সন্ধ্যার পর এক ঘণ্টা রায়চাঁদ বাজার-সংলগ্ন সড়কে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ চলে।
এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে রাতেই উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন নিজামুল হক। তিনি অভিযোগ করেন, রাতে রায়চাঁদ বাজার থেকে তাঁর সমর্থকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় বিএনপির কয়েকজন কর্মী পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালায়।
পৃথক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, জামায়াতের সহায়তায় বিডিপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে লালমোহনের স্বাভাবিক নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি অলিউল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া কেন্দ্র করে নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের দরবেশ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, করিমবাজার এলাকার একটি পিচঢালা সড়কের ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ এনে বিএনপির কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে এনসিপির এক নেতা ফেসবুকে পোস্ট দেন। শুক্রবার সন্ধ্যার পর ওই নেতা ও তাঁর সহযোগীরা লিফলেট বিতরণ করতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
